কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও তথ্যের অস্পষ্টতা দূর করতে সোমবার সকালে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াত। এতে দলটির পক্ষ থেকে ছয় সদস্য অংশ নেন। নেতৃত্বে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৈঠক শেষে তিনি জানান, নির্বাচন সামনে রেখে কমিশন কতোটা সিরিয়াস সেটা বুঝতে গিয়েছিলেন তারা। জামায়াতের পক্ষ থেকে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তফসিল ঘোষণা ও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশন যে আশ্বাস দিয়েছে, তাতে তারা আস্থা রাখেন বলে জানিয়েছেন পরওয়ার। নির্বাচনের সময় পিছিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা তারা দেখছেন না, কারণ এটি আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, পাশাপাশি জাতির প্রত্যাশারও বিষয়।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময় তফসিল ঘোষণার সময় নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, সেটি পরিষ্কার করতেই মূলত আজকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন তাদের জানিয়েছে, সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা হবে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। তার দাবি, রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশন সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানিয়েছে।
বৈঠকে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন, মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অফিসারদের ভূমিকা-এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকে আরও কার্যকর করার দাবি জানানো হয় এবং ৫ আগস্টের পর সারাদেশের থানাগুলো থেকে লুট হওয়া অস্ত্র কতটুকু উদ্ধার হয়েছে সে তথ্যও জানতে চান তাঁরা। পাশাপাশি, অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও আলোকপাত করা হয়।
তিনি জানান, প্রবাসীদের সহজে ভোট দেওয়া, ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তার মতে, জাতীয় নির্বাচনকে শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য নিরপেক্ষ রাখতে যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যয় করা উচিত এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ কমিশনের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো বিবেচনায় রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে কমিশনকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর সব প্রশাসনিক ক্ষমতা কমিশনের অধীনে যাবে, এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনে রদবদল করা হবে-এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের আশ্বস্ত করেছেন।
বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, প্রচার সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ এবং বাংলাদেশ ল-ইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার।-ইনফোজা প্রতিবেদন