মা কোকিলদের চালাকি ও পাজি কোকিলছানারা

মিউঁ2 months ago57 Views

কোকিল পাখিকে তো সবাই চেনো। এর ডাকও শুনেছো। যারা শহরে থাকো, তারা ভিডিওতে হলেও দেখেছো। কিন্তু গ্রামে গিয়ে কখনো কি কোকিলের সাথে দেখা করতে পেরেছো কেউ?

কোকিলেরা সহজে দেখা দেয় না। ওরা লাজুক পাখি। মানুষের সামনে আসতে লজ্জা পায়। গাছের পাতার আড়ালে থেকে কু-উ-ও, কু-উ-ও করে ডাকতে থাকে।

কোকিলের ডাক শুনে বসন্ত ঋতু আসে। গাছে গাছে উঁকি দেয় নতুন পাতা। ফুল ফোটে। বাতাসে আসে আরাম।

এ কারণে তোমরা হয়তো কোকিলকে ভালো পাখি বলেই মনে করো।

কিন্তু কোকিলের জীবনে আছে ভয়ঙ্কর কিছু সত্য। এই পাখিরা একদম চতুর।

তোমরা শুনেছো কি না জানি না, কোকিলদের কিন্তু নিজেদের বাসা থাকে না। ওরা ভাবে, বাসা বানানোর ঝামেলা করার দরকার কী? ডিম পাড়ার সময় হলে চুপি চুপি কাকের বাসায় চলে যায় মা কোকিল। কাক যখন বাসায় থাকে না, তখন ওখানেই ডিম পেড়ে আসে।

তারপর কী হয় জানো?

মা কাকেরা বাসায় ফেরে। দেখে অনেকগুলো ডিম। কিন্তু কোকিলের ডিমকে আলাদা করে চিনতে পারে না। ওগুলোকেও নিজের ডিম ভেবে তা দেয় মা কাক। তারপর বাচ্চা ফুটে।

ডিম থেকে বেরিয়ে আসে কাকের ছানারা আর কোকিলের ছানারা। ছানাগুলো দেখতে আলাদা। তারপরও বোকা কাকেরা কোকিলের ছানাকেও নিজের ভেবে নেয়।

কাকেরা কেবল কা-কা করে। আর মানুষের ঘর থেকে খাবার চুরি করতে জানে। কিন্তু তাদের বাসায় যে কোকিলের ছানা বড় হয়, সে খবর ওরা বুঝতেও পারে না।

একটা মা কাক যখন তার ছানাকে খাওয়ায়, তখন কোকিলের ছানাকেও খাওয়ায়। কোকিলছানারা খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়। ওরা কাকের ছানাদের দেখে ভাবে- কাকের ছানারা থাকলে তো তাদের খাবার কমে যাবে। আর খাবার কম খেলে তো তাড়াতাড়ি বড় হওয়া যায় না।

ওরা একটা বাজে বুদ্ধি বের করে।

মা কাক যখন বাসায় থাকে না, তখন কোকিলছানারা কাকের ডিম আর বাচ্চাদেরকে ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে ফেলে দেয়।

কাক ফিরে আসার পর কিছুই বুঝতে পারে না।

আসলে কাকেরা তো মানুষের মতো নিজের বাচ্চাদের গুনে রাখতে জানে না। সে আদর করে কোকিলছানাদের খাওয়াতে থাকে। কোকিলছানাদের শরীরে শক্তি থাকে কাকের চাইতেও বেশি।

একটা সময় কোকিলছানারা তার পালিত মা কাককেও বাসা থেকে ফেলে দিতে চায়। মা কাক ভাবে, ছানাগুলো হয়তো দুস্টুমি করছে।

যেসব দেশে কাক নেই, সেসব দেশের মা কোকিলেরা ছোট ছোট কিছু পাখির বাসায়ও ডিম পাড়ে। ওই ছোট পাখিগুলোর নাম হলো- মিডো পিপিট, রবিন। আরো কয়েকটি কঠিন নামের ছোট পাখি আছে। ওগুলো হলো- রিড ওয়ার্বলার, পাইড ওয়াগটেল, উইলো ওয়ার্বলার।

এই পাখিগুলোর বাসায় কোকিলছানারা বড় হতে হতে কখনো কখনো পালিত মায়ের চাইতে পাঁচগুণ বড় হয়ে যায়। তারপর ওই ছানারাই গিলে খায় পালিত মাকে।

এবার বুঝলে তো, এরা কতোটা পাজি পাখি?

কি বিশ্বাস হচ্ছে না আমার কথা?

প্রকৃতি নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তারাও অনেক বছর আগে এই সত্যটা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তারা ভাবতেন, মা কোকিল হয়তো লুকিয়ে লুকিয়ে এসে ছানাদের খাবার দিয়ে যায়।

১৭৮৭ সালে কোকিলদের ওপর গবেষণা করে এই বিষয়টা লিখে গিয়েছিলেন বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জেনার। তিনি লিখেছেন, নিজেদের বেঁচে থাকার জন্যই কোকিলেরা কেবল নিজের কথা ভাবে।

কিন্তু বাচ্চারা, তোমাদের কিন্তু শুধু নিজের কথা ভাবলে চলবে না।

তোমাদেরকে মা-বাবার কথা মেনে চলতে হবে। আর ভাই-বোনেরা মিলেমিশে থাকতে হবে। একজন অন্যজনের সাথে ধাক্কা-ধাক্কি করা যাবে না। খাবার নিয়েও ঝগড়া করবে না।

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...