খবর সত্যি নাকি! শুনা যাচ্ছে, সামনের ডিসেম্বরেই ফিরে আসছে আওয়ামী লীগ?
কী মনে হয় আপনার?
যদি সত্যি সত্যিই ফিরে আসে, তাহলে চব্বিশওয়ালারা জয়বাংলা! জিতবে এবার নৌকা!
না, হয়তো এই নির্বাচনেই জিতবে না। তবে বিরোধীদলে তো থাকবেই। এতে সাময়িকভাবে সুবিধা পেতে পারে দুই-একটা রাজনৈতিক দল। কিন্তু ফাইনাল খেলায় সবাই ধরা!
ইয়েস, আমি সিরিয়াস। একদম খামখেয়ালি করছি না।
ডিসেম্বরের প্রথম অর্ধেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। আর এর ঠিক আগে আগেই হয়তো দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারেন ড. ইউনূস।
ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগকে নিয়ে বহু বাউরি বাতাস বয়ে গেছে। তারপর লম্বা একটা দম নিতে গিয়ে থেমে গেছে বাতাস।। নতুন করে জেগে উঠছে না।
জুলাইযোদ্ধাদের দল এনসিপিও এখন আওয়ামী লীগ নিয়ে চুপ। – চুপ চুপ চুপ অনামিকা চুপ। কথা বলো না। তুমি আমি এখানে কেউ জানে না..
আর বিএনপির অবস্থা- বাহির বলে দূরে থাকুক, ভিতর বলে আসুক না।
জামায়াত?
-কী করি আজ ভেবে না পাই। পথ হারিয়ে কোন বনে যাই। কোন্ মাঠে যে ছুটে বেড়াই,
সকল ছেলে জুটি..
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। মরিয়া হয়ে উঠেছে ফিরে আসার জন্য। এই দলটি জাতে মাতাল হলেও তালে ঠিক আছে।
কিন্তু চব্বিশের দলগুলো?
এরা জাতেও মাতাল, তালেও মাতাল।
দেশের ভেতরে দলগুলোর মাতাল অবস্থা। তবে বাইরে বিপুল শক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নিজেদের দিকে টেনে আনার চেষ্টা করছে বিশ্বের সহানুভূতি। এতে অনেকটা সফলও হয়েছে।
কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূসকে চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ছয়টি মানবাধিকার সংস্থা। চিঠিতে র্যাব বিলুপ্ত করা এবং ডিজিএফআই সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
এই চিঠির শুরুতে ইউনূস সরকারের প্রশংসা করা হয়। গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়। তবে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিই বেশি কাভারেজ পেয়েছে গণমাধ্যমে।
এতে সাহস সঞ্চার হয়েছে আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে। ঝটিকা মিছিল নিয়ে বেরিয়ে যেতেও দেখা গেছে তাদেরকে। এমনকি শেখ হাসিনা ফিরে আসবেন বলেও আশায় বুক বেঁধেছেন অনেকে। তারা তাকিয়েছিলেন সেনাপতি ওয়াকারের দিকে।
একদিকে সেনাপতি, অন্যদিকে রূপবান লোককথার চরিত্র তাজেল। মুখোমুখি দুই চরিত্রকে নিয়ে রাজনীতিতে নেমে এসেছিলো তুমুল সাসপেন্স।
কী হয়, কী হয়- বলে মানুষের চোখ ছিলো মঞ্চের দিকে। ফেসবুকে ঘাপটি মেরে থাকা আওামী লীগ কর্মীরাও সামনে এসে একচোট ঝেড়ে দিয়ে গেছেন ড. ইউনূস এবং ‘জুলাই গং’দের।
নাটক এগিয়ে গেলো একটা পরিণতির দিকে। সেনাপতি তার গুনাহগার অফিসারদের হাজির করলেন আদালতে। এতে আবার ‘তাজেল তাজেল’ বলে জয়ধ্বনি হলো।
ঘটনা জয়ধ্বনিতেই শেষ নয়। আদালতের আঙিনা থেকে শুরু হয় নতুন সাসপেন্স। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৫ সেনাকর্মকর্তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যানে করে। আর তাদেরকে আদালত থেকে পাঠানো হলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সাবজেলে।
এতে কেউ কেউ আন্দাজ করে নিয়েছেন- বিচারে এই আসামিদের যদি ফাঁসি হয়, তাহলে ফাঁসির দড়িটিও থাকবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত!
আমার প্রশ্ন এখানেই। আর এখানেই আমি আওয়ামী লীগ ফিরে আসার গন্ধ খুঁজে পাচ্ছি।
গুম ও খুনের সাথে জড়িত এই অফিসাররা এতোদিন বহাল তবিয়তে ছিলেন। আশায় বুক বেঁধেছিলেন কোনো একটা কিছুর। কিন্তু তাজেলের ‘গোঁয়ার্তুমি’ অনেককিছু গড়বড়ে করে দিয়েছে। তবে অনেককিছু গড়বড়ে হয়ে গেলেও সবকিছু নয়। যেমন- এই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রিজন ভ্যান।
আওয়ামী লীগকে ফেরানো গেলে এই কর্মকর্তারাই হয়ে উঠতে পারেন একেকজন নায়ক। আর আগামীর নায়কদের কি সাধারণ প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যাওয়া শোভা পায়?
একদম না।
সুতরাং আওয়ামী লীগ আসছে। সেই আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা হয়তো থাকবেন না। থাকবে নৌকা।
আমি জল-স্থল ঘেঁটে জটিল মন্ত্র পড়ে এই সত্যটা জানতে পেরেছি, আপনাদেরও জানিয়ে দিলাম। বিশ্বাস করবেন কি করবেন না, আপনাদের ইচ্ছা।
তবে, একটা কথা আছে। বাতাসের ওপর কিন্তু মন্ত্র চলে না।
বাংলাদেশের বাতাস হলো জনগণ। এই জনগণ যদি আবার ঝড় হয়ে যায়, তাহলে আওয়ামী লীগ কেন, দুশীলদেশ তথা ভারতেরও সাধ্য নেই উঠে দাঁড়ানোর।
আলাপ: শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ