সোমবার সকাল নয়টা, রত্নভান্ডার আনলক হয়েছে ছয়বছর পর। শুরু হয়েছে গণনার মহা আয়োজন। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাগলা মসজিদের রত্নভান্ডার থেকে নিয়ে আসা হয়েছে ৯টি মাঝারি সাইজের কনটেইনার, ৬টি সিলগালা করা খাম। কনটেইনারভর্তি সোনা-রূপা। পাওয়া গেছে বিদেশি মুদ্রা। মহা উৎসাহে চলছে ‘দ্য গ্র্যান্ড কাউন্টিং’। কাউন্টিং তত্ত্বাবধান করছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।
নিরাপত্তায় আছেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দশজন পুলিশ সদস্য এবং ছয়জন এসআরবি সদস্য। কাউন্ট করছেন জেলা প্রশাসন ও পাগলা মসজেদর কর্মীরা। কাজ করছেন রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাদেরকে সহায়তা করছেন জুয়েলারি সমিতির দশজন স্বর্ণকার।
এই আয়োজনে স্বর্ণ ও রূপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হবে। পরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলামে তোলা হবে। আর বৈদেশিক মুদ্রাগুলো নগদায়ন করা হবে ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী।
পাগলা মসজিদের দানবাকসো খোলা হয় তিনমাস পর পর। বাকসে পাওয়া যায় টাকা-পয়সা। সেইসাথে সোনা-দানা। খোলার সাথে সাথেই টাকার অঙ্ক হিসাব করে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাকসে পাওয়া সোনা-দানা পাঠিয়ে দেওয়া হয় ট্রেজারিতে। সবশেষ এই রত্নভান্ডারের হিসাব হয়েছিলো ২০২০ সালের মার্চ মাসের ১১ তারিখ। ওই সময় প্রায় তিন বছরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি সোনা ও ১৮৮ ভরি রূপা নিলামে বিক্রি করা হয়। দাম পাওয়া যায় ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া যায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দানবাকসো খোলা হয়েছে ১৮ বার। কিন্তু রত্নভান্ডার কাউন্ট করার আয়োজন এটাই প্রথম। বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা আছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। পাশাপাশি মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে এসেছে আরও ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ দেশজুড়ে পরিচিত। মানত পূরণের আশায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই মসজিদে আসেন। তারা দান করেন। এসব দান থেকে পাওয়া অর্থ মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়নসহ মানুষের কল্যাণে খরচ করা হয়।
প্রতিবেদন: মো. আল আমিন