শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি আর প্রবাসীদের হয়রানির ঘটনায় তোলপাড় নেট দুনিয়া। অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন প্রবাসী ও নেটিজেনরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে উঠে আসছে লাগেজ চুরির পুরনো ঘটনাগুলোও। এবার বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চোর ধরার ফর্মুলা জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবি। নোটিশে বিমান থেকে বেল্ট পর্যন্ত কার লাগেজ কোথায় আছে, সেই প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এই ফর্মুলা অনুসরণ করলে কেমন হবে শাহজালালের চিত্র?
বিমান থেকে নামার পর কার লাগেজ কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সবকিছু দেখা যাবে সিসিটিভি ক্যামেরায়। আর এই ক্যামেরার সরাসরি সম্প্রচার হবে অ্যারাইভাল লাউঞ্জে। সোমবার এমন প্রস্তাব করে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান সরকার। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দফতরে তিনি এই নোটিশ পাঠান। এতে উল্লেখ করা হয়, নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে দেশের সব বিমানবন্দরে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। সেইসাথে লাগেজ তল্লাশি করতে হবে প্রকাশ্যে ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা না হলে জনস্বার্থে রিট আবেদন করবেন মাহমুদুল হাসান।

বাংলাদেশে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের এই প্রস্তাব নতুন হলেও, বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে এ প্রক্রিয়া সফল ও প্রমাণিত। জাপানের টোকিওতে নারিতা ও হানেদা বিমানবন্দরে এই প্রক্রিয়া চালু আছে। বন্দর দুটিতে হাই-ডেফিনিশন সিসিটিভি মনিটরিং এবং গ্লাস স্ট্রাকচারের মাধ্যমে লাগেজ ট্র্যাকিং নিখুঁত রাখা হয়। এমনকি দেশটিতে ভুল হ্যান্ডলিং ও ক্ষতি এড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক সর্টিং সিস্টেমও ব্যবহার হচ্ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ হাব সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর। সেখানে অটোমেটেড সর্টিং ব্যবস্থার পাশাপাশি সিসিটিভি মনিটরিং নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ নিয়ন্ত্রক দুবাই ও দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রিয়েল-টাইম ডিজিটাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তিতে লাগেজের লোকেশন যাত্রীদের মনিটরে তুলে ধরা হয়। এমনকি প্রতিবেশী ভারতের বাজেট এয়ারলাইন্স ‘ইন্ডিগো’ এবং কয়েকটি প্রধান বিমানবন্দরে লাগেজ বেল্টের পাশে ও মোবাইল অ্যাপে নিরাপত্তা ফুটেজ স্ট্রিমিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবছর লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক ও আন্তর্জাতিক যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাহীন ‘ব্লাইন্ড স্পট’ এর সুযোগে গড়ে উঠেছে লাগেজ চুরির সিন্ডিকেট। অ্যারাইভাল লাউঞ্জে সরাসরি সম্প্রচার চালু করা গেলে এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে উঠতে পারে নিরাপদ বন্দরে।
-ইনফোজা প্রতিবেদন