তারেক রহমান, তিনি ফিরবেন? কবে ফিরবেন? নাকি ফিরবেন না?
প্রশ্নটা আছে।
সারাদেশ তাকিয়ে আছে খালেদা জিয়ার দিকে। তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন প্রায় সব দল ও মতের মানুষ।
আল্লাহ তাঁকে সুস্থ করে দিন।
খালেদা জিয়ার জন্য উদ্বেগ বাংলাদেশের সবার।
আসলেই কি সবার?
না, আক্ষরিক অর্থে বলতে গেলে সবার না।
এমন কিছু লোক আছেন, যারা এই নেত্রীকে পছন্দ করেন না। এমন কিছু লোক আগেও ছিলো, যারা প্রেসিডেন্ট জিয়াকেও পছন্দ করতেন না।
তারা কারা?
ধরুন শেখ হাসিনার কথাই। তিনি কি খালেদা জিয়ার জন্য উদ্বেগে আছেন?
‘হ্যাঁ’ কিম্বা ‘না’। আপনারাই বলুন।
ঠিক আছে, জবাব পেয়ে গেছি।
এবার বলুন, প্রেসিডেন্ট জিয়াকে যখন হত্যা করা হয়েছিলো তখন কি শেখ হাসিনা কষ্ট পেয়েছিলেন?
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কয়েকদিনের মাথায় হত্যা করা হয় জিয়াউর রহমানকে। তার হত্যার পেছনে ছিলো কারা?
শুনা যায় ভারতের কথা। তবে বিষয়টি এখনো খোলাসা করা হয়নি।
আমরা এখন যেমন খোলাসা করে জানতে পারছি না, তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরতে বাধা কোথায়?
তারেক রহমান প্রেসিডেন্ট জিয়ার সন্তান। তার মা খালেদা জিয়া।
প্রেসিডেন্ট জিয়া বাংলাদেশকে জাগিয়ে তুলেছিলেন সমৃদ্ধির দিকে।
বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে কাদের গায়ে আগুন জ্বলে, বলুন দেখি?
হ্যাঁ, দুশীলদেশ ভারত।
মাত্র চারবছর দেশ শাসনের পর জিয়াকে হত্যা করা হয়। জিয়ার বড় ছেলে তারেকের বয়স তখন চৌদ্দ। এরপর বহু ধকল সামলাতে হয়েছে জিয়া-পরিবারকে।
প্রেসিডেন্ট জিয়াকে পাকিস্তানের চর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন শেখ হাসিনা। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার সময় তারেকের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে নানা অপবাদ।
তখন সিআরআই নিয়ন্ত্রিত কিছু পেজ থেকে অদ্ভুত অদ্ভুত কল্পকাহিনী ছড়ানো হতো। কাহিনীগুলোতে তারেক রহমানের এমন একটা ইমেজ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হতো- যেন মদ আর নারী নিয়েই থাকেন তিনি।
এসব প্রোপাগান্ডা বিশ্বাসও করতেন অনেকে। ওইসময় বিএনপির পদধারী কিছু লোককেও দেখতাম ওগুলো বিশ্বাস করতে।
এখন ওই লোকদের মুখেই শুনি তারেক-বন্দনা। তারেক রহমানের গুণগান করতে করতে এরা সৃষ্টিকর্তার কাছাকাছি নিয়ে যেতে চান তাকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাক্টিভিস্ট সাহেদ আলমকে নিয়ে তুলনামূলক একটা ট্রল দেখলাম। সাহেদকে বিরিয়ানী আলম উল্লেখ করে ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময় ও বর্তমান সময়ে দেওয়া তার বক্তব্যের তুলনা করা হয়েছে।
একটাতে তারেক রহমানের উলঙ্গ সমালোচনা করতে দেখা গেছে তাকে। অন্যটাতে তারেক রহমানকে মহান করে তুলছেন তিনি।
সাহেদ আলম কেন এতোটা বদলে গেলেন?
ব্যাপারগুলো বুঝতে কি খুব বড়মাপের বিশেষজ্ঞ হতে হয়?
একটু খেয়াল করলে দেখবেন, তারেক রহমানকে যারা ‘খাম্বা তারেক’ বলতেন। যারা তাকে কলঙ্ক মেখে দেওয়ার চেষ্টা করতেন তাদের অনেকেই এখন দাঁড়িয়ে গেছেন তারেক রহমানের ইমেজ রক্ষার ঢাল নিয়ে।
আসলে কি এই পল্টিবাজ লোকগুলো প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমানের ইমেজ রাখতে পারছেন?
একদম না। পল্টিবাজেরা দুধের মাছি। দুধের খোঁজ পেলেই উড়ে যায় তারা। একদিকে দুধ খায়। অন্যদিকে তক্কে তক্কে থাকে, কখন দুধ দেওয়া গাভীটিকেও জবাই করে খেয়ে ফেলা যায়।
দেখুন, দুশীলদেশ ভারত কখনো তারেক রহমানের ভালো চাইবে, সেটা আমার বিশ্বাস হয় না।
ওদের দরকার একজন লেন্দুপদর্জির। শেখ হাসিনা সেই পারপাস সার্ভ করেছেন। হাসিনা চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে যাওয়ার পর নতুন লেন্দুপদর্জির খোঁজে আছে ভারত।
কে হবেন সেই দর্জি?
তারেক রহমান?
আমার বিশ্বাস হয় না। কারণ তার শরীরে প্রেসিডেন্ট জিয়ার রক্ত। তাকে পেটে ধরেছেন খালেদা জিয়ার মতো আপোষহীন নারী।
আর এ কারণেই তারেক রহমানকে গ্যাড়াকলে ফেলতে চাইবে ভারত।
আমার মনে হয়, তিনি সেই কলেই আটকে আছেন।
এদিকে দেশের ভেতর বড় করে তোলা হচ্ছে কোনো এক লেন্দুপ দর্জিকে।
তিনিই হয়তো ল্যাঙ মারতে চাইছেন তারেক রহমানকে।
তারেক রহমান ফিরতে না পারলে লাভের সবটা যাবে এই দর্জির ঘরে।
খেয়াল করে দেখুন- তারেক রহমান ফিরে আসুক, দলের ভেতর থেকেও অনেকে সেটা চান না। তাদের মুখের এবং শরীরের ভাষা কী বলে, সেটা বোঝার চেষ্টা করুন।
নাহয় লেন্দুপ দর্জির বাহিনী তারেক রহমানকে কখন খেয়ে দেবে, টেরই পাবেন না আপনারা।
আজকের আলাপের পুরোটাই হাইপোথিসিস। তবে হাইপোথিসিস চিন্তার দরজা খুলে দেয়। যেসব ঘটনা এখনো স্পষ্ট হয়নি, সেখানে হাইপোথিসিস আমাদের ভাবতে শেখায়। হাইপোথিসিস যদি ভুলও হয়, তারপরও সত্য খুঁজে পেতে সহায়তা করে।
আলাপ : শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ
প্রযোজনা : সজল ফকির