ডুরান্ড লাইন: দাবার কোর্ট আফগানিস্তান, ভারতের চেকের মুখে পাকিস্তান

বিশ্লেষণ4 months ago32 Views

কাতারকে ধন্যবাদ। বিশ্বরাজনীতির জটিল বিবাদগুলোতে বহুবার মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসতে দেখা গেছে দেশটিকে। এবার মধ্যস্থতা করলো পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বিরোধে।

আল জাজিরা আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছে গেছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। তাদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করার জন্য কাতারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন এরদোগানকেও।

যুদ্ধ থামাতে এগিয়ে আসায় আমিও ধন্যবাদ দিলাম দেশদু’টিকে। কিন্তু যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়ার জন্য পাকিস্তান আর আফগানিস্তানকে কী দেওয়া যেতে পারে?

প্রথমে সতর্ক করে দিতে চাচ্ছি পাকিস্তানকে। আপনারা কয়েকদিনের যুদ্ধে দুশীলদেশ তথা ভারতকে নাকানি-চুবানি খাইয়েছেন, এটা ঠিক। কিন্তু এর মানে এটা না যে, আপনারা সুপারপাওয়ার হয়ে গেছেন! আপনারা এখন চাইলে যেকোনো দেশকে হাতের তালুতে করে নাচাতে পারবেন!

আফগানিস্তানের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেনি আপনাদের তথাকথিত ‘প্রভু’ আমেরিকাও। আপনারা পারবেন কীভাবে?

আসলে পাকিস্তান আমেরিকার ফাঁদে পড়েছে। খেয়াল করলে দেখবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি ফিরে পেতে চাইছেন। আর ট্রাম্পের কথা শুনে আফগানিস্তানে বাহাদুরি দেখাতে গেছে পাকিস্তান।

হ্যাঁ, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন দুশীলদেশ ভারতকে পাত্তা দিচ্ছেন না, সত্য। তথাকথিত ‘বন্ধু’র এমন ব্যবহারে যারপরনাই আহত হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এতে খুশিতে বগল বাজাতে শুরু করেছে পাকিস্তান। দেশটির নেতারা ভাবছেন, ট্রাম্প এখন তাদের একচেটিয়া বন্ধু।

কিন্তু বাস্তব কথা হলো- আমেরিকা যার বন্ধু, তার শত্রুর দরকার হয় না। আবার একইভাবে বলা যায়, দুশীলদেশ তথা ভারত যাদের বন্ধু, তারাও ধীরে ধীরে স্বাধীনচেতাদের শত্রুতে পরিণত হয়।

সুতরাং সাবধান আমির খান মুত্তাকি, আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
দুশীলদেশের সাথে গলাগলি করতে যাবেন না। ভারতে সাতদিন কাটিয়ে এসেছেন ভালোকথা। তবে খেয়াল রাখবেন, এই সাতটা দিন যেন আপনাদের ক্ষমতায় থাকা সাড়ে পনেরোশ’ দিনকে ধূসর করে না দেয়।

আমির খান মুত্তাকি,
আপনারা যখন ক্ষমতা নিয়েছিলেন। তখন ‘তালেবান’ ‘তালেবান’ বলে চিৎকার করে ত্রাহি অবস্থা তৈরি করেছিলো ভারত। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো যতটা না চেঁচামেচি করেছে, তারচাইতে শতগুণ বেশি চেঁচামেচি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এরা গুজব ছড়িয়েছে। যেন ‘তালেবান’ এক দৈত্যের নাম। এর দু’টি শিং আছে! দাঁতালো মুখ আছে। মানুষ সামনে পেলেই ছিঁড়ে খায়। অথবা ঢোক করে গিলে ফেলে!
শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকেও ‘তালেবান’ তকমা দিয়েছে ভারত।

আর এখন! এখন তালেবান-মন্ত্রী মুত্তাকির জন্য লাল-গালিচা বিছিয়ে দেয় দেশটি। আসলে দুশীলদেশের লজ্জা বলতে কিছু নেই। এরা শক্তের ভক্ত, নরমের যম।

একারণেই ইউনূসকে বলি, দুশীলদেশের সাথে পুতু-পুতু করবেন না। হ্যাডম দেখান, আপনার জন্য লাল-গালিচা বিছিয়ে দেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই হ্যাডম ছিলো, তাকে ভারত কীভাবে রিসিভ করতো, সেই চিত্র সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া যায়। আর তাদের পুতুল শেখ হাসিনাকে কীভাবে রিসিভ করা হতো, সেটাও সবার জানা।

আসলে পুতুলের মর্যাদা তো পুতুলের মতোই হবে। আফগানিস্তানের হামিদ কারজাইয়ের মর্যাদা কেমন ছিলো? আর এখনকার মুত্তাকিদের মর্যাদা?
পার্থক্য করতে পারেন?

হ্যাঁ, যারা শক্ত থাকতে পারে, দুশীলদেশ প্রথমে তাদের নিয়ে চেঁচামেচি করবে। ষড়যন্ত্র করবে। তারপরও সুবিধা করতে না পারলে লাল গালিচা বিছিয়ে দেবে। কিন্তু ষড়যন্ত্র বন্ধ থাকবে না।

ভারতের কাছে আমির খান মুত্তাকী এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মুত্তাকীদের সাথে পাকিস্তানের ঝামেলা আছে। এই ঝামেলাটা যতই উস্কে দেওয়া যায়, প্রতিপক্ষকে ততই দুর্বল করে দিতে পারবে দুশীলদেশ।

দুশীলদেশ ভালো করেই জানে, আফগানিস্তান হলো এশিয়ার হৃদয়। আর এই হৃদয়ে আছে এক ক্ষত- ডুরান্ড লাইন। এই লাইনের একপাশে পাকিস্তান, অন্যপাশে আফগানিস্তান। ১৮৯৩ সালে বৃটিশ-ভারতের পররাষ্ট্র সচিব মার্টিমার ডুরান্ড দুই হাজার ৬৪০ কিলোমিটারব্যাপি লাইনটি টেনে দিয়েছিলেন। পাকিস্তান এই লাইনকেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে দেখে আসছে। আর আফগানিস্তান একে সীমান্ত হিসেবে মানছে না। কারণ ডুরান্ড লাইনে বিভক্ত হয়ে গেছে পশতুন এবং বেলুচরা। এদের কেউ আফগানিস্তানের ভেতর, কেউ পড়ে যায় পাকিস্তানে।
আফগানিস্তান দাবি করছে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানের পশতুনদের জন্য স্বাধীনতা।

পাক-আফগান বিরোধের মূল কারণ এটাই। ডুরান্ড লাইনের কারণেই দেশদু’টির মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। বেলুচ পুশতুনদের মধ্যে জেগে উঠে বিচ্ছিন্নতাবাদ।

আর একেই বরাবরই সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে দুশীলদেশ।

আলাপ: শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...