মোহাম্মদ মুরসি, দ্যা ট্র্যাজেডি অব ইজিপ্ট। মিশরের পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসে তিনি ছিলেন প্রথম ও শেষ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। এই মহানায়কের উত্থান আর বিষাদ-বিদায় ছিলো দেশটির বাস্তবতা।
আজকের আয়োজনে তুলে আনা হয়েছে মোহাম্মদ মুরসি ও আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে ঘিরে রাজনীতির রোমাঞ্চকর ঘটনাগুলো-
পৃথিবীসেরা রোমাঞ্চকর গল্পগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মোসাদ। দুর্ধর্ষ এই গোয়েন্দা সংস্থাটি ইসরাইলের। লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরের মাঝখানে ছোট দেশ ইসরাইল, ফিলিস্তিনীদের বসতি দখল করে অশান্ত করে রেখেছে পৃথিবীকে। দেশটির সবদিকে মুসলিম রাষ্ট্র। পশ্চিমে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। আর দক্ষিণ-পশ্চিমে মিশর। গাজার সঙ্গে মিশরের সীমান্ত রাফা। এই সীমান্ত আটকে দিয়ে দিনের পর দিন গাজাকে কারাগার বানিয়ে রাখছে ইসরাইল। সহযোগি হিসেবে কাজ করছে মিশর সরকার।
এতটুকু সহযোগিতা পেতে মিশরের রাজনীতি ইসরাইলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আর এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিতে গলানোর জন্য সবসময় নাক বাড়িয়ে রাখে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। কেবল মিশর নয়, আরবের সবগুলো দেশে জাল বিছিয়ে রেখেছে সংস্থাটি।
মোসাদের বিছিয়ে দেওয়া জালের বড় একটি শিকার মোহাম্মদ মুরসি। আর এর টোপ হিসেবে কাজ করেছেন মিশরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
দু’জনের বয়স কাছাকাছি। মোহাম্মদ মুরসি ইসা আল আয়াতের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৭ জুন। আর সিসির জন্ম তিন বছর পর, ১৯৫৪ সালের ১৯ নভেম্বর কায়রোতে। মুরসির জন্মের সময় মিশরের মসনদে বিলাসি রাজা ফারুক। তিনি হীরার বল বানাতেন। সাজিয়ে রাখতেন হীরার তৈরি নাশপাতি। খাওয়া-দাওয়ার রুচিও ছিলো উন্নত! সাতদিনে ছয়শো ঝিনুক খেয়ে সাবাড় করতেন।
ফাত্তাহ আল-সিসির জন্ম হয়েছিলো ফারুকের পতনের পর। ১৯৫২ সালে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিলাসি রাজা ফারুক পালিয়ে যান। মসনদে বসেন তার শিশুপুত্র ফুয়াদ। তার হয়ে দেশে সুশাসন চালাতে থাকেন মুহাম্মদ নাজিব ও জামাল আবদেল নাসের। ১৯৫৩ সালের ১৮ জুন রাজতন্ত্র বিলুপ করে বিপ্লবি সরকার। এর এক বছর পর পৃথিবীতে আসেন সিসি।
অভিযোগ রয়েছে, সিসির জন্মের আগেই তাকে নিয়ে পরিকল্পনা ছিলো মোসাদের। যারা এই অভিযোগ তুলছেন, তারা এর পক্ষে প্রমাণ দেখাতে না পারলেও অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সিসি-বিরোধীদের দাবি, তার মা ছিলেন একজন মরোক্কান ইহুদি। নাম ছিলো মালেকা তিতানি। সিসির বাবা সাইদ হোসেন খলিলির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে নাম পাল্টে রাখা হয় সোয়াদ মোহাম্মদ।
শুধু এ তথ্যই নয়, সিসির মামা ইউরি ছিলেন ইসরাইলের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড বেন গুরিয়নের রাজনৈতিক দলের সদস্য। বিষয়টি নিয়ে ২০১৩ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে টাইমস অব ইসরাইল। এতে আল জাজিরার সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের এক সাবেক নেতার সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়। নাসের নামের ওই নেতা জানান, আলজেরিয়া থেকে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম আল ওয়াতানের এক প্রতিবেদন থেকে তিনি জানতে পেরেছেন সিসির মামা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়ন্ত্রিত ‘হাগানা’র সদস্য ছিলেন। তিনি মরক্কো থেকে ইসরাইলে বসবাসের জন্য চলে যান। সেখানে রাজনৈতিক দলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন। ১৯৬৮ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বিরসেবায় ইসরাইলের লেবার পার্টির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। ইউরির বোন মালেকা তিতানি মোসাদের মিশন নিয়ে অভিবাসন করেন মিশরে।
ধারণা করা হয় ‘হানি ট্র্যাপ’ তৈরি করে সাইদ হুসেইন খলিলিকে বশে আনেন তিতানি। পরে তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতি আল-আজহার মসজিদের কাছে গামালিয়ায় থাকতেন। এর পাশেই বিখ্যাত আল-খলিলি বাজার। ওই এলাকায় মুসলমান, ইহুদি ও খৃস্টানদের বসতি ছিলো।
সিসির শেঁকড় খুঁজতে গেলে এর বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। আর এই তথ্য-স্বল্পতাকে পুঁজি করে নিজেদের ধারণা আরো পোক্ত করে নিচ্ছেন সিসি-বিরোধীরা। টেনে আনছেন ইসরাইলে জাতীয় বীর হিসেবে খ্যাত গুপ্তচর এলি কোহেনের উদাহরণ।
কোহেন ছিলেন মিশরিয় ইহুদি। মোসাদের হয়ে কাজ করতেন তিনি। ১৯৬২ সালে ‘কামেল আমিন থাবেত’ ছদ্মনামে গোপন মিশন দিয়ে তাকে পাঠানো হয় সিরিয়ার দামেস্কে। সেখানে আর্জেন্টিনা ফেরত প্রবাসী হিসেবে তার একটা ভুয়া পরিচয় তৈরি করে দেওয়া হয়। এই পরিচয় নিয়েই প্রভাবশালীদের আস্থা অর্জন করে নেন কোহেন। সতেরো প্রভাবশালী নারীর সঙ্গেও গড়ে তুলেন প্রেমের সম্পর্ক। এসব সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইসরাইলে পাচার করতে থাকেন। বলা হয়ে থাকে কোহেনকে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বানানোর কথাও ছিলো।
১৯৬৫ সালে সিরিয়ার গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে যান তিনি। ওই বছরের ১৮ মে জনসম্মুখে কোহেনের ফাঁসি কার্যকর হয়। এ ফাঁসি ঠেকাতে বিশ্বব্যাপি মত গড়ে তুলতে ক্যাম্পেইন চালিয়েছিলো ইসরাইল। কিন্তু কোহেনকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তার স্মরণে দেশটিতে বেশ কয়েকটি সড়ক ও স্থাপনার নাম রাখা হয়।
এবার আসা যাক, বিষাদ-বিদায় নেওয়া মহানায়ক মোহাম্মদ মুরসি প্রসঙ্গে। নীল নদের ব-দ্বীপের পূব দিকে আদওয়া গ্রামের এক কৃষকের ঘরে জন্ম হয় তার। গ্রামটি শারকিয়া প্রশাসনিক এলাকায়। গ্রামে থেকেই কোরানে হাফেজ হন মুরসি। পরে কায়রোতে গিয়ে হয়ে যান সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। ওখান থেকে বৃত্তি নিয়ে চলে যান আমেরিকায়। ১৯৮২ সালে সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি পান।
লেখাপড়া শেষ করে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। আশির দশকে নাসায় স্পেশ শ্যাটল ইঞ্জিন উন্নয়নেও কাজ করেছিলেন তিনি।
আল আরাবিয়ার সাথে এক সাক্ষাৎকারে মুরসির কয়েকজন ছাত্র জানিয়েছেন, তারা তাকে অধ্যাপক আল-আয়াত নামে চিনতেন।
তার সাবেক সহকর্মী নাজি এল-নাজার এখনো ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছেন। তিনি জানান, রাজনীতিতে কখনো আগ্রহ দেখা যায়নি মুরসির। তিনি প্রভাষক হিসেবে কাজ শুরু করে সহকারি অধ্যাপক হয়েছিলেন। মন দিয়ে একাডেমিক কাজ করতেন। কাজের বাইরে কেবল ধর্মকর্মটা করে যেতেন।’
নাজি জানান, মুরসি মেয়েদের সঙ্গে বেপরোয়া চলাফেরা করতেন না। তার স্ত্রী নাজলা আলি মাহমুদ পুরুষের সঙ্গে হাত মেলাতেন না। এই দম্পতি রক্ষণশীল ছিলো, চরমপন্থী নয়।
মূলত ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী রাজনীতির সাথে যোগাযোগ ছিলো তার। ব্রাদারহুডে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৭৭ সালে। এরপর এগিয়ে যেতে থাকে রাজনৈতিক জীবন। ২০০০ সালে নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য। ২০১১ সালে মুসলিম ব্রাদারহুড ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি নামে রাজনৈতিক দল গঠন করলে মুরসিকে চেয়ারম্যান বানানো হয়।
ওই বছর মিশরের তাহরির স্কোয়ারে লাগতে শুরু করে বসন্তের বাতাস। বাতাসে জোর দেয় ব্রাদারহুড। সমর্থনে থাকে মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা। বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি রিপাবলিকরাও। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন হোসনি মুবারক।
২০১২ সালের নির্বাচনে ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় খায়রাত শাতেরইকে। মুরসি ছিলেন বিকল্প প্রার্থী। পরে শাতেরকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করায় প্রার্থী হয়ে যান মুরসি। তারপর বিজয়।
জয়ের পর এক ভাষণে জনগণকে আশার কথা শুনান তিনি। সবসময় ফিলিস্তিনের স্বার্থের পক্ষে থাকবেন বলে জানিয়ে দেন।
ক্ষমতায় বসার এক মাসের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান ফিল্ড মার্শাল তানতাভিকে অবসর নেওয়ার নির্দেশ দেন মুরসি। আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী বানান তিনি। ততদিনে ব্রাদারহুডের এক নাম্বার পছন্দ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছেন সিসি। নতুন প্রজন্মের মুখ হিসেবে দেখা হতো তাকে। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে সিসিকে ব্রাদারহুডের লোক আখ্যা দিয়ে নানা বিশ্লেষণ প্রকাশ হতে থাকলো। ইসরাইলি ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ব্রাদারহুডের আস্থা অর্জন করতে এমন প্রোপাগান্ডা চালানো হয়।
সিসিকে নিয়ে খুশিই ছিলেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই গাজায় রাফাহ সীমান্ত খুলে দেন তিনি। হামাস নেতা খালেদ মেশাল গাজা সফর করেন। মিশরে ইসরাইল দূতাবাসে হামলা করে জনতা। এতে মুরসির বিরুদ্ধে ক্ষেপে যায় ইসরাইল।
এসব বিষয়কে পাত্তা না দিয়ে দেশের কাজে মন দিলেন মুরসি। তার জীবনযাপন ছিলো একেবারে সাধারণ। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। সরকারি বাড়িতে উঠার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি খালি পকেটে এসেছি। যাওয়ার সময় তোমরা আমাকে পরীক্ষা করবে। পকেটে কিছু পেলে বুঝবে আমি খেয়ানত করেছি।’
আগের শাসকদের সময় অফিস-আদালতে প্রেসিডেন্টের ছবি টানিয়ে রাখার নিয়ম ছিলো। মুরসি সে নিয়ম রহিত করে দিলেন।
পুরো বছরের জন্য তিনি নিজের বেতন নির্ধারণ করলেন দশহাজার ডলার।
একবারের ঘটনা- তার অসুস্থ বোনকে ইউরোপ পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু বিদেশে না পাঠিয়ে দেশের সাধারণ হাসপাতালেই বোনের চিকিৎসা করান মুরসি।
কখনো কখনো মুরসিকে দেখলে মনে হতো অফুরন্ত অবসর তার হাতে। বাড়ির বাইরে বের হলে হঠাৎ দেখা যেতো গাড়ি থামিয়ে দিয়েছেন তিনি। তারপর এগিয়ে যেতেন যাদের ঘর নেই তাদের কাছে।
প্রেসিডেন্ট মুরসি বাড়ি থেকে বের হলে তার সাথে লম্বা গাড়ির বহর থাকতো না। বন্ধ করে দেওয়া হতো না পথ। বরং গাড়ির ছাদ খুলে দাঁড়িয়ে থাকতেন তিনি। হাত নেড়ে সালাম জানাতেন।
প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ফজরের জামাতে সবসময় পাওয়া যেতো। নামাজের আগে স্ত্রী নাজলা আলী মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে চলে যেতেন তিনি। বাথরুম এবং ওযুখানা পরিষ্কার করতেন। তাহাজ্জুদ পড়তেন। তারপর ফজর পড়ে বাড়ি ফিরতেন। জুমার দিনে মসজিদে খুতবা দিতেন।
একবার মুরসির জামাতে নামাজ পড়া নিয়ে হইচই শুরু করলো কিছু মিডিয়া। তাদের অভিযোগ নামাজে যাওয়ার সময় সঙ্গে ফোর্স নিয়ে রাষ্ট্রের বাড়তি খরচ করাচ্ছেন তিনি।
এর জবাবে কোনো ফোর্স না নিয়েই সাধারণ মানুষের সঙ্গে নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নেন মুরসি।
এর পরও তার খুত ধরার লোকের অভাব ছিলো না। তার বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছিলো ইসরাইল। মার্কিন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকরাও এক হয়ে কাজ করতে থাকে মুরসিকে হটানোর জন্য। সেইসাথে সুবিধা পেয়ে পালে হাওয়া লাগাতে থাকে স্থানীয় অভিজাতরা।
কিন্তু হুমকিÑধমকি পেয়েও ইসরাইল ও ফিলিস্তিন বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থানে থাকেন মুরসি। এমনকি ডেমোক্র্যাটদের টু-স্ট্যাট পলিসিকেও সমর্থন করলেন না। তিনি ইসরাইলের অস্তিত্বের বিরোধীতা করলেন।
আরব ইসরাইল যুদ্ধের পর আমেরিকা ও ইসরাইলের বাধ্যগত শাসকেরাই মিশরের ক্ষমতায় ছিলেন। মুরসির এই অবাধ্যতায় সক্রিয় হয়ে যায় দুই শক্তি। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সৌদি ও আমিরাত। সবাই মিলে অভিযোগ আনে মুরসির বিরুদ্ধে। তিনি কাতার, ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে আলাদা খাতির রাখেন। ফিলিস্তিনে সুবিধা দিচ্ছেন হামাসকে।
২০১৩ সালে তাহরির স্কোয়ারে জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা। তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আগে থেকেই ওত পেতে ছিলেন আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। আন্দোলনের বাহানা দিয়ে মুরসিকে আটক করলেন তিনি। তারপর নিজেই বসে যান ক্ষমতায়।
মুরসিকে নিয়ে যাওয়া হয় অজানা কোথাও। কয়েক মাস পর আদালতে হাজির করা হয়। কাতারের কাছে রাষ্ট্রীয় গোপন ফাঁস করার অভিযোগে ২০১৫ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।
৬ জুন, ২০১৯। আদালতের সামনে হাজির করা হয় মোহাম্মদ মুরসিকে। তিনি বক্তৃতা দিতে শুরু করলেন- ‘আমি আমার দেশে পরিবার নিয়ে ভালো নেই। তারপরও দেশকে ভালোবাসি, সম্মান করি। দেশ আমাকে নিয়ে তামাশা করছে। কিন্তু আমি দেশকে নিয়ে গর্ব করি।’
বক্তব্যের মাঝে থামিয়ে দেওয়া হয় তাকে। তারপর শাহাদাত আঙ্গুল আকাশের দিকে তুলে মাটিতে পড়ে যান মুরসি। হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন তাকে। শেষ হয়ে যায় মহা অধ্যায়।
উপসংহারে লিখে দেওয়া হয়- মুরসির মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। অন্যদিকে মুরসির পরিবার দাবি করছে, তাকে স্লো পয়জন দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
উপস্থাপনা: মশিউর কায়েস
MAK
Thank you for your video