মশালমিছিলে উত্তাল সন্ধ্যা, কিশোরগঞ্জে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রথম দফায় প্রার্থী ঘোষণায় ফাঁকা ছিলো কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর আসন। তখন থেকেই এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে শুরু হয় শীতল উত্তেজনা। এর আগে দলটির পক্ষ থেকে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন সাবেক ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু। প্রথম দফার ঘোষণায় তার নাম না থাকায় পরিবর্তনের আভাস ছিলো।

সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় ৩৬ আসনে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে কিশোরগঞ্জ-১ তথা সদর ও হোসেনপুর আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামকে।

এতে ফুঁসে উঠতে থাকে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থকেরা। তাদের অভিযোগ, দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা সভাপতি শরিফুল আলমের প্রভাব কাজে লাগিয়ে উচ্চপর্যায় থেকে মনোনয়ন এনেছেন মাজহারুল ইসলাম।

জেলার সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও করছেন বিক্ষুব্ধরা। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ও দুর্নীতিবাজ বলেও উল্লেখ করেন তারা। এই মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে কয়েকদিন থেকেই মিছিল করে আসছেন বিক্ষুব্ধরা।

সোমবার এই মিছিল পরিণত হয় জনস্রোতে। মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে একাট্টা হতে দেখা যায় দলটির সিনিয়র অনেক নেতাকে। জেলা সভাপতি শরিফুল আলমের বিরুদ্ধেও পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেন তারা।

সোমবার সকালের শুরুটা ছিলো স্বাভাবিক। দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন বিক্ষুব্ধরা। লিখিত বক্তব্য পড়েন সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাসুদ হিলালী। তিনি অভিযোগ করেন- ঘোষিত প্রার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম নৈতিকতার প্রশ্নে বিতর্কিত এবং তার মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

হিলালী সতর্ক করে বলেন, মনোনয়ন বাতিল না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা। তার পাশে বসেছিলেন চার প্রভাবশালী নেতা- রেজাউল করিম খান চুন্নু, খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, রুহুল হোসাইন ও অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম।

দুপুরের অভিযোগের কিছুক্ষণের মধ্যেই দৃশ্য বদলে যায়। ঘোষিত প্রার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম বের করেন ধানের শীষের মিছিল। হাজারো নেতাকর্মীর স্রোতে শহরের সড়কে দেখা যায় ধানের শীষের ঢেউ। স্টেশন রোড, পুরানথানা, রথখোলা এলাকায় নামে মানুষের ঢল।

দিনের শেষে শহরজুরে দেখা যায় পাল্টাপাল্টি উত্তাপ।

সন্ধ্যা সাতটা, পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় দেখা যায় ক্ষীণ আলো। মুহূর্তের মধ্যেই জ্বলে ওঠে মশালের সারি। মনোনয়ন না পাওয়া একাধিক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের হাতে মশাল। আর সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে শহরের সড়কে, মানুষের আলোচনায়।

ভিড় জমা পথচারীরা থমকে দাঁড়ায়।

মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কে পৌঁছানোর পর উত্তাপ আরো স্পষ্ট হয়। সতর্ক অবস্থানে থাকে পুলিশ। উত্তেজনা চরমে পৌঁছলেও বড় কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই মিছিল শেষ হয়। -কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

0 Votes: 0 Upvotes, 0 Downvotes (0 Points)

Leave a reply

Loading Next Post...
Follow
Search Trending
Popular Now
Loading

Signing-in 3 seconds...

Signing-up 3 seconds...