প্রচণ্ড গরমের এক দুপুর। খাঁ খাঁ করছে প্রকৃতি। তৃষ্ণায় কাতর এক কাক পানি খুঁজতে খুঁজতে আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছিল। বহুক্ষণ উড়েও কোথাও একফোঁটা পানিও চোখে পড়ছিল না। অবশেষে ক্লান্ত কাকটি একটি বাগানে নেমে এলো। সেখানে সে দেখতে পেলো একটি মাটির কলসি, আর সেটির তলায় কিছুটা পানি জমে আছে।
কাকটি খুশি হয়ে কলসিটির মুখে উঁকি দিলো। কিন্তু সমস্যা হলো—কলসিতে পানি এতো নিচে যে তার ঠোঁট দিয়ে পৌঁছানো সম্ভব নয়। কাকটি কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। তৃষ্ণায় মরিয়া কাকটি হাল ছাড়লো না। সে বসে ভাবতে লাগলো—কীভাবে পানিটুকু উপরে তুলতে পারে?
বাগানের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট পাথরগুলোর দিকে হঠাৎ তার চোখ পড়লো। কাকের মাথায় সঙ্গে সঙ্গে এক বুদ্ধি খেলে গেলো। সে ঠোঁটে একটি পাথর তুলে এনে কলসিতে ফেলে দিল—“টুপ!”
পানি একটু ওপরে উঠল।
তারপর আরেকটি পাথর—“টুপ!”
পানি আরও ওপরে উঠল।
এভাবে কাকটি ধীরে ধীরে পাথর ফেলতে লাগলো। অনেকগুলো পাথর পড়ার পর পানির স্তর ওপরে উঠে এলো। কাকটি সহজেই ঠোঁট দিয়ে পানি পান করতে পারলো। তৃষ্ণা মিটিয়ে কাকটি তৃপ্ত মনে আকাশে উড়ে গেলো।
ভয়েসওভার: শাহ ওবায়েদ নেহান