
ইনফোজা ডেস্ক
নাগরিকত্ব প্রশ্নে টিউলিপ সিদ্দিককে নিয়ে সামনে এসেছে নতুন বিতর্ক। এর আগে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব অস্বীকার করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লেবার পার্টির প্রভাবশালী এই এমপি। তবে এক যৌথ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। এতে অস্বস্তিতে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও।

বৃটিশ দৈনিক এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন
অনুসন্ধানে বিস্ফোরক তথ্য
বাংলাদেশের প্রভাবশালী দৈনিক প্রথম আলো ও যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস যৌথভাবে এক অনুসন্ধান চালিয়েছে। সংবাদমাধ্যমদু’টি দাবি করছে, টিউলিপ সিদ্দিক আসলে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দুটিই পেয়েছিলেন। তাদের হাতে থাকা নথি অনুযায়ী—
উভয় নথিতেই ঢাকার সেই বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার খালা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ছিল।
টিউলিপের অস্বীকার ও আইনি অবস্থান
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৪৩ বছর বয়সী এই এমপি চলতি বছরের শুরুতে লেবার সরকারের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি দাবি করেছেন, নিজের কারণে দলে কোনো জটিলতা চান না।
তার আইনজীবীরা পুরো ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি প্রচারণা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন—
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগ তুলেছে, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় টিউলিপ প্রভাব খাটিয়ে তার পরিবারকে জমি বরাদ্দ পাইয়ে দিয়েছেন। এ মামলায় তিনি বর্তমানে ঢাকায় অনুপস্থিত আসামি। তবে টিউলিপ সিদ্দিক তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়—
“এটি নিপীড়নমূলক ও প্রহসনাত্মক মামলা।”
দ্বৈত নাগরিকত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী, যাদের বাবা-মা বাংলাদেশি, তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকারী। টিউলিপ যুক্তরাজ্যে জন্মালেও তার বাবা-মা দুজনই বাংলাদেশি। ফলে তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বের যোগ্য।
কিন্তু অতীতে তিনি একাধিকবার বাংলাদেশি পরিচয় অস্বীকার করেছেন।
২০১৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন—
“আমি ব্রিটিশ এমপি, বাংলাদেশি নই।”
বিতর্কের প্রভাব
এই নতুন তথ্য ও পাল্টা দাবি–অভিযোগ ঘিরে চাপে পড়েছে টিউলিপ সিদ্দিকের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি। সেইসাথে তেমনি লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্যও এটি বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।